মারামারির পুরোনো মামলার জেরে বাড়ি-ঘর লুট, মালিক পরিবারে আতঙ্ক
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে এক পরিবারের বাড়ি-ঘরে ভয়াবহ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির দেয়ালের ইট ও বিদ্যুতের মিটার ছাড়া ঘর থেকে আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিকস, রান্নার সামগ্রীসহ প্রায় ত্রিশ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে একই গ্রামের আব্দুল আলী ও তার ছেলে ফুল মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলেও থানা তা আমলে নেয়নি, এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ফলে মালামাল উদ্ধারের কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করছে পরিবারটি।
স্থানীয়রা জানায়, নয় মাস আগে জমিজমা নিয়ে মারামারিতে আব্দুল আলীর ছেলে আব্দুস সাত্তার নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মঞ্জুর আলী জেল খেটে সম্প্রতি জামিনে বের হন। তার আরেক ভাই এখনো কারাগারে রয়েছেন। এ সুযোগে তাদের পরিবারে থাকা নারী-শিশুরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি।
মঞ্জুর আলী ও তার স্ত্রী রাবিয়া বেগম জানান,
“গত শুক্রবার ও শনিবার ফুল মিয়ারা দলবল নিয়ে আমাদের ঘরে হামলা চালায়। ফ্রিজ, টিভি, সেলাই মেশিন, ফার্নিচার, রান্নার জিনিসপত্রসব লুট করে নিয়ে গেছে। শুধু ভাঙা দেয়াল আর বিদ্যুতের মিটারটা পড়ে আছে। আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি, মালামাল উদ্ধারেরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”পরিবারটি বর্তমানে বাড়িছাড়া হয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
অভিযুক্ত ফুল মিয়া লুটপাটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“নয় মাস আগে মঞ্জুর আলীরা আমার ভাইকে খুন করেছে। তারা আমাদের মামলা তুলতে চাপ দিচ্ছে। এজন্য আমরা তাদের বাড়ি ভাঙচুর করেছি।”
ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা বাদাঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হাফিজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফাঁড়িতে গেলে কর্তব্যরত কনস্টেবল জানান,
“স্যার ঘুমাচ্ছেন, কথা বলা যাবে না।”
তাহিরপুর থানার ওসি মো. আমিনুল ইসলামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও পাওয়া যায়নি


