ভুয়া সাংবাদিকতার দৌরাত্ম্য: গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা হুমকির মুখে
ডেস্ক রিপোর্ট।।গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়, যার মূল দায়িত্ব সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ও অশিক্ষিত ব্যক্তির কর্মকাণ্ড এই গুরুত্বপূর্ণ পেশার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। কথিত সাংবাদিক পরিচয়ে এক শ্রেণির প্রতারক ব্যক্তি সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিভ্রান্তি ও অনাস্থা তৈরি করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক ব্যক্তি যিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ন্যূনতম স্তরও সম্পন্ন করতে পারেননি, তিনি অর্থের বিনিময়ে একটি পত্রিকার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এরপর তিনি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে গিয়ে নিজের কিংবা অন্য কারও অসুস্থতার কথা বলে সহানুভূতি আদায় করেন এবং অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রেই সরল বিশ্বাসে কর্মকর্তারা বা সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন।
এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত প্রতারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পুরো গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। প্রকৃত সাংবাদিকরা যেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য উদঘাটনে কাজ করেন, সেখানে এ ধরনের ভুয়া পরিচয়ধারীরা পেশাটিকে কলুষিত করছে।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের প্রতারণা রোধে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলী ও প্রশাসনের আরও কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করা জরুরি। সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করা এবং ভুয়া সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কেউ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আর্থিক সহায়তা চাইলে তার পরিচয় যাচাই করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা উচিত।
গণমাধ্যমের মর্যাদা রক্ষা ও সমাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হলে ভুয়া সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে এখনই সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের দাবি।


